Showing posts with label অপরাধ. Show all posts
Showing posts with label অপরাধ. Show all posts

Sunday, December 4, 2016

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জনগণ এক সাথে কাজ করছে



প্রতিনিধি: বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশ দক্ষতার সাথে কাজ করছে। ভোলায় কোন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী নেই। আছে শুধু মাদক। ভোলার পুলিশ এবং জনগণ জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাধকের বিরুদ্ধে এক সাথে কাজ করছেন।

তিনি পুলিশের প্রশংসা করে বলেন, ঢাকার হলি আর্টিসান রেস্তোরায় সন্ত্রাসী হামলার পর আমি বিদেশীদের সাথে বৈঠক করেছি তারা আমাকে বলেছিল আমাদের নিরাপত্তা কোথায়। আমি তাদের আশ^স্ত করেছিলাম আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আদের দক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করবে আপনারা নিরাপদেই থাকবেন। আমার সেই কথা আজ সত্যি হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে করতে পেরেছেন। শনিবার দুপুর ২ টায় জেলা পুলিশের আয়োজনে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে ভোলায় কমিউনিটি পুলিশিং ও জঙ্গি সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য মন্ত্রী এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আইজি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, পুলিশ কোন দলের নয়। পুলিশ রাষ্ট্রের এবং জনগণের। পুলিশকে কোন দল বা গোষ্ঠী তাদের নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে না। দেশে কোন সময় পুলিশকে লক্ষ করে হত্যা করা হয়নি। ২০১৩ সালে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে লক্ষ করে ১৮ জন পুলিশ হত্যা, ৩০০ পুলিশ পঙ্গু ও ৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যকে আহত করা হয়েছে। একটি গোষ্ঠীর লক্ষ ছিলো দেশের পুলিশকে দুর্বল করা। এতোগুলো পুলিশ হত্যা করা হলো কোন রাজনৈতিক দল বৃবরিতি দেয়নি।

পুলিলশ প্রধান আরো বলেন, পুলিশ জঙ্গি দমনে একশনে গেলে একটি মহল পুলিশের সমলোচনা করেন। কেন তাদের জীবীত গ্রেফতার করা হয়নি। জঙ্গিরাতো সব সময় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে পুলিশকে আক্রমন করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে আক্রমন করে।  তারাই দেশে জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছেন। এসময় জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিকে সকল প্রকার সহযোগী করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।  ভোলা জেলা  কমিউনিটি পুলিশিং এর আহবায়ক শফিকুল ইসলাম সভাপতিত্ব বক্তব্য রাখেন, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সরক্ষিত সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মমতাজ বেগম, বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. এমিন টুল, ভোলা পৌর মেয়র মনিরুজ্জামনি মনির, সদর উপজেলা চেয়ারশ্যান, মোশারফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউনুস, কাচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নকিব প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মোকতার হোসেন।
পড়ুন »

Thursday, November 3, 2016

তিন শিশুকে ঘুম পাড়াতে হেরোইন পুশ করতো বাবা-মা!



নিজেদের তিন শিশুকে ঘুম পাড়াতে ইনজেকশনের মাধ্যমে হেরোইন পুশ করার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ঘটেছে এই রোমহর্ষক ঘটনা।
 
পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাশলি হাট ও ম্যাক লিরয় ম্যাকাইভার দম্পতি ইদুরের বিষ্ঠা, ড্রাগের ইনজেকশন ও হেরোইনে ভরা বাড়িতে ছয়, চার ও দুই বছরের তিনটি শিশু নিয়ে বাস করছিল। আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনে ছয় বছরের শিশুটিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তাদের বাবা মা ভালো লাগার ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করতো। শিশুটি জানায়, সাদা রংয়ের পাউডার পানিতে মিশ্রিত করে তাদের ইনজেকশন দেয়া হতো। দুটি শিশুর দেহে পরীক্ষায় ড্রাগ পাওয়া গেছে এবং শরীরে ইনজেকশন পুশ করার ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।    
 
শিশুদের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে সোমবার শিশুদের মা অ্যাশলি হাটকে আদালতে হাজির করা হয়, ম্যাক লিরয় ম্যাকাইভারের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে এই অভিযোগ। এই জুটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে তারা যে হেরোইনে আসক্ত সেটা স্বীকার করেছে।  শিশুদের গত বছরের নভেম্বর ওই বাসা থেকে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। ওয়াশিংটন পোস্টকে পুলিশ বলেছে, শিশুগুলো ঘৃণ্য পরিবেশে বাস করতো। হেরোইনের বিষয়টা বাদ দিলেও সেখানে বসবাসের কোনো পরিবেশই ছিল না। বিবিসি।
পড়ুন »

Monday, October 31, 2016

‘আল্লাহ আকবার’ বলে মন্দিরে হামলা, হিন্দু যুবক আটক


গাজীপুরের টঙ্গীতে ‘আল্লাহ আকবার’ বলে চিৎকার দিয়ে মন্দিরে হামলা চালিয়েছে সঞ্জয় সাহা (২৮) নামে এক হিন্দু যুবক। এসময় ওই দুর্গামন্দিরের পুরোহিত অনিল কুমার ভৌমিককে মারধর ও প্রতীমায় লাথি মেরে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়।

সোমবার সকালে টঙ্গী বাজারেরে শ্রী শ্রী দুর্গামন্দিরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।

সঞ্জয় সাহার (২৮) বাবা গণেশ সাহা টঙ্গীর জামাইবাজারের সফিকুলের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

মন্দিরের পুরোহিত অনিল কুমার ভৌমিক ও এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় মন্দিরে তিনি পূজা অর্চনা করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৫-৬ জনের একদল যুবক হঠাৎ ‘আল্লাহ আকবর’ বলে চিৎকার করে মন্দিরে হামলা চালায়। এসময় সঞ্জয় সাহা মন্দিরে প্রবেশ করে মূর্তি ভাংচুর করা জন্য উপর্যুপরি লাথি মারতে থাকে। এতে বাধা দিলে সে পুরোহিতকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সঞ্জয়কে আটক করলেও তার সঙ্গে থাকা অপর সহযোগিরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সঞ্জয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার নাম সঞ্জয় সাহা এবং পিতার নাম গণেশ সাহা বলে জানায়। কিন্তু থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা পর সে তার নাম মোবারক হোসেন ও পিতার নাম আবদুল্লাহ বলে জানায়। পরে পুলিশের লোকজন সঞ্জয়দের ভাড়া বাসা টঙ্গীর জামাইবাজার সফিকুলের বাড়িতে গিয়ে তার নাম সঞ্জয় বলেই সত্যতা পায়।

সঞ্জয়ের বাবা গণেশ সাহার বরাত দিয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ জানায়, সঞ্জয় গত ২০১১ সালে বাড়ির কাউকে কিছু না বলেই উধাও হয়ে যায়। এঘটনায় তখন টঙ্গী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও স্থানীয় এমপিকে জানানো হয়। পরে গত দেড় বছর আগে সঞ্জয় বাসায় ফিরে আসে। কিছুদিন থাকার পর আবারো বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে গত দেড় মাস আগে ফের বাসায় আসে।

তিনি আরো জানান, তারপর থেকে সে ইসলামী রীতিনীতি পালন করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হলে তার বাবার মুঠোফোনে একটি ফোন আসে। তখন বলা হয় ‘সে (সঞ্জয়) যা করতে চায়, তাই করতে দিন’ না হয় আপনাদের ক্ষতি হবে। ক্ষতির ভয়ে তারা ঘটনাটি থানা পুলিশে জানায়নি। তবে তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য র‌্যাব-১ এর সদস্যরা টঙ্গী থানায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পড়ুন »

Saturday, October 29, 2016

আট রোগীকে হত্যা করলেন নার্স এলিজাবেথ


কানাডায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আট রোগীকে হত্যার দায়ে এক নার্সকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওনতারিও শহরে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এলিজাবেথ ট্রেসি মে (৪৯) নামের ওই নারীকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হয়। ওনটারিওর ওয়েটলফার অব উডস্টক নামের একটি নার্সিং হোমে কর্মরত ছিলেন ট্রেসি মে। খবর বিবিসির।
নার্সের হাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই উডস্টকের ক্রেসেন্ট কেয়ারে কমপক্ষে দুইবার দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ওই নার্সিং হোম থেকে বছরখানেক আগে অবসর নেন ট্রেসি মে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের প্রত্যেকের শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণে একটি ড্রাগ প্রদান করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ৫ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ। ওন্টারিও প্রদেশেই নিহতরা সবাই বাস করতেন।
পড়ুন »

Wednesday, October 19, 2016

হত্যার দায়ে সৌদি যুবরাজের শিরচ্ছেদ [Breaking News]


সৌদি আরব: সৌদি নাগরিক আদেল বিন সোলাইমান বিন আব্দুল করিম আল মুহাইমিদকে খুনের দায়ে সৌদি যুবরাজ তুর্কি বিন সৌদ বিন তুর্কি বিন সৌদ আল কবিরকে শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) রিয়াদে এই শিরচ্ছেদ কার্যকর করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়, আদেল বিন সোলাইমান বিন আব্দুল করিম আল মুহাইমিদ যুবরাজের সহকর্মী ছিলেন। একদিন ঝগড়া করার এক পর্যায়ে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, খুনের পর নিরাপত্তারক্ষীরা যুবরাজকে ধরে ফেলে। এরপর ধারাবাহিক তদন্তের পর যুবরাজ দোষী প্রমাণিত হন।
জেনারেল কোর্ট তাকে দোষী করে একটি রুল জারি করে, পরে সেটা আপিল বিভাগ এমনকি সুপ্রিম কোর্টেও জারি রাখা হয়। এরপর এই রুলের বিষয়ে রাজকীয় ফরমান জারি করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য যেকোনো শাস্তি কার্যকরে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।
পড়ুন »

Sunday, October 16, 2016

মৃত্যু ঠেকাতে নয়, মৃত্যু ঘটাতে এখন অ্যাম্বুলেন্স!



ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফটকে অ্যাম্বুলেন্স চাপায় দুই নারী, এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গতকাল শনিবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে ‘মানব সেবা’ নামের অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের চাপা দিলে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী বলেছেন, অ্যাম্বুলেন্সটির (সিলেট মেট্রো-ছ ৭১-০০৬৪) মালিকদের একজন এই হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয় মাহফুজুর রহমান। দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী সোহেল মিয়া (১৮)।
ঢাকা মেডিকেলের ফটকে অ্যাম্বুলেন্স চাপায় শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মাসহ নিহত ৪
এ দুর্ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন বলেন, এখানে যাঁরা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাছে রোগীরা জিম্মি। রোগীদের জিম্মি করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্স-সেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন গোলেনুর বেগম (২৫), তাঁর সাত বছরের ছেলে সাকিব, অন্তঃসত্ত্বা আমেনা বেগম (৩০) ও অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৬০)। আহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন নিহত গোলেনুরের ছয় মাস বয়সী ছেলে আকাশ, আমেনা বেগমের ছেলে সজীব (৮), বাচ্চু মিয়া (৩৫) ও রমজান আলী (৩০)। নিহত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সম্পর্কে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগের মূল ফটকের পাশে বসে তিনি ভিক্ষা করতেন। তাঁর বয়স আনুমানিক ৬০ বছর।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তখন জরুরি বিভাগের মূল ফটকের সামনে ভিড় ছিল। মূল প্রবেশপথের প্রায় পুরোটাই দখল করে ছিল রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এ সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুতগতিতে ভেতরে ঢুকতে থাকে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি প্রবেশমুখের ফটকের একটি অংশে ধাক্কা দেয়। সেখান থেকে সামনে যাওয়ার সময় অন্যদের চাপা দেয়। ফটকের অংশটিও ভেঙে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। যেখানে এ ঘটনা ঘটেছে, তার পাশেই হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প। সেখান থেকে পুলিশ দ্রুত এসে চালকসহ অ্যাম্বুলেন্সটি আটক করে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শুক্রবার রাতে একটি মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার বাইরে গিয়েছিল। শনিবার সকালে সেটি ঢাকায় ফেরে। আরেকটি মৃতদেহ নিতে অ্যাম্বুলেন্সের মালিক ওয়ার্ড বয় মাহফুজুর ও মূল চালক সোহাগ তাঁর সহকারী সোহেলকে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে যেতে বলেন। জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ দিয়ে যাওয়ার সময় সামনে একটি রিকশা পড়ে। রিকশা দেখে সোহেল অ্যাম্বুলেন্সের ব্রেকে চাপ দিতে গিয়ে এক্সেলেটরে চাপ দেন। ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওসি বলেন, ‘ও তো এক্সেলেটর আর ব্রেকের পার্থক্য বোঝে না।’ রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনায় মাহফুজুর, সোহাগ ও সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স-সেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ১৭ জুলাই প্রথম আলোর শেষ পাতায় ‘কর্মচারীদের অ্যাম্বুলেন্সের কাছে জিম্মি রোগী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তারপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ আছে, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে হাসপাতালের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জড়িত। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আসা অ্যাম্বুলেন্স, স্কুটার ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে। এদের ‘ট্যাক্সি ও প্রাইভেট কার মালিক সমিতি’ নামে একটি সমিতি আছে। সমিতিকে নগদ টাকা না দিয়ে এখান থেকে কোনো রোগী বা মৃতদেহ কেউ নিতে পারে না।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রোগী ও লাশ পরিবহনের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। এর সুযোগ নিয়ে হাসপাতালের কর্মচারীরা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা শুরু করেন। কর্মচারীদের ৭০-৭৫টি অ্যাম্বুলেন্স আছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রতিদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দেয়াল ঘেঁষে রাখা হয়। কিন্তু গতকাল রাতে হাসপাতালের সামনে গিয়ে কোনো অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়নি।
নাম না প্রকাশের শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের সামনে থেকে সব অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই।
জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র খাজা আবদুল গফুর বলেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত অ্যাম্বুলেন্সটির মালিক হাসপাতালের কেউ, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশকে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক, সহকারী ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নিহত সাকিবের চাচা মো. রিয়াজ খলিফা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাই ফেরদৌস খলিফা পেশায় রিকশাচালক। স্ত্রী-সন্তানসহ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালিতে থাকেন। গত মঙ্গলবার বাড়ির সামনে খেলার সময় সাকিবকে একটি মোটরসাইকেল ধাক্কা দিলে সে মাথায় আঘাত পায়। চিকিৎসার জন্য শুক্রবার সকালে সাকিবকে সূত্রাপুরে তার মামার বাসায় আনা হয়। সঙ্গে সাকিবের বাবা, মা ও একমাত্র ছোট ভাই আকাশও (বয়স ছয় মাস) আসে। গতকাল সকালে তাঁরা সপরিবার ঢাকার সূত্রাপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। জরুরি বিভাগের প্রবেশমুখে রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিচ্ছিলেন ফেরদৌস। আর মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে হেঁটে এগোচ্ছিল সাকিব। হঠাৎ পেছন থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে সাকিবকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সাকিব। ধাক্কায় সাকিবের মা গুরুতর আহত হন, আর মায়ের কোলে থাকা আকাশ মাথায় আঘাত পায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা তিনটার দিকে সাকিবের মা মারা যান। পুরো ঘটনা ফেরদৌসের চোখের সামনেই ঘটে।
ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা আমেনা বেগম ছেলে সজীবকে সঙ্গে নিয়ে ফার্মেসিতে যাচ্ছিলেন চিকিৎসাধীন স্বামীর জন্য টেস্টটিউব কিনতে। জরুরি বিভাগের ফটকের সামনে গেলে একই অ্যাম্বুলেন্স তাদের চাপা দেয়। এতে সজীবের পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। আমেনা পেটে গুরুতর আঘাত পান। দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ দুর্ঘটনায় আমেনার পেটের সন্তানটি মারা যায়। দুপুরে অস্ত্রোপচার করে মৃত সন্তানকে বের করে আনেন চিকিৎসক। সন্ধ্যায় আমেনাও মারা যান। ছেলে সজীব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত ২৬ আগস্ট ট্রাক দুর্ঘটনায় আমেনার ট্রাকচালক স্বামী জাকির হোসেনের পা ভেঙে গেছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জের এই বাসিন্দা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর যখন আট মাস বয়স, তখন তাঁর মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। স্ত্রী-সন্তান ছাড়া তাঁর আপন কেউ নেই। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের আর কোনো মূল্য থাকল না। কার জন্য আর বাঁচব আমি।’
পড়ুন »